বৃষ্টি-কাদায় গরুর বিপাকে ব্যাপারীরা...!

বৃষ্টি-কাদায় গরুর বিপাকে ব্যাপারীরা...!

বৃষ্টি-কাদায় গরুর বিপাকে ব্যাপারীরা...!

‘স্যার, দয়া কইরা আর হাটের বৃষ্টি-কাদার কথা লিখবেন না। এমনিতেই কাস্টমার কম। এর ওপর বৃষ্টি-কাদার কথা শুনলে তারা আর হাটমুখী হবে না। বার বার আল্লাহরে ডাকতাছি যেন আবহাওয়াটা ভালো কইরা দেন। লাভ না হোক অন্তত সমান সমান দামে যেন গরু কয়টা বেইচ্যা বাড়ি ফিরতে পারি।’
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টায় ক্রেতাশূন্য পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জ ক্লাব মাঠে দাঁড়িয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে আসা গরুর ব্যাপারী আনসার আলী এ কথা বলছিলেন। এ সময় পাশেই ঘুমিয়ে থাকা বেশ কয়েকজন শ্রমিককে দেখিয়ে বললেন, ‘আইজকার দিনটা বাদ দিলে ঈদের বাকি আর মাত্র দুদিন। এমন সময় ওদের দম ফেলার উপায় থাকার কথা নয়। কিন্তু কাস্টমার না থাকায় কাজ নাই, তাই ঘুমাচ্ছে।’
গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ও আজ সকালের বৃষ্টির কারণে রহমতগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এ হাটটির গরুর ব্যাপারীরা বিপাকে পড়েছেন। বৃষ্টির কারণে পুরো হাটে কাদাপানি জমে চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, হাটে এমনিতেই ক্রেতা নেই, স্বল্পসংখ্যক ক্রেতা যারা গরু কিনতে এসেছেন তারা ঘুরেফিরে পছন্দসই গরু খুঁজতে পারছেন না। জুতা পায়ে হাঁটতে গিয়ে কাদায় আটকে যেতে হচ্ছে। নিরূপায় হয়ে অনেকেই জুতা হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অধিকাংশ গরুর গায়ে কাদা। ব্যাপারীদের অনেককেই খোয়াড়ের সামনে বালি ফেলে ক্রেতাদের শুকনো জায়গায় দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।
ফরিদপুরের ভাঙ্গার গরুর ব্যাপারী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, গতকাল বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বেচাকেনা ভালো হয়েছে। ক্রেতাদের সমাগম বেশ ভালো ছিল। দুই টাকা কম আর বেশি লাভে গরু বিক্রি করতে পেরেছেন। কিন্তু বৃষ্টির কারণে বেচাকেনার সর্বনাশ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, তারা ২৬ জন মিলে ৩১টি গরু হাটে নিয়ে এসেছেন। ঘরে পালা একটি গরু বিক্রির জন্য এনেছেন তিনি। তোফাজ্জল হোসেন গরুটির দাম ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চেয়েছেন। গতকাল এক ক্রেতা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম করেছিলেন। কিছু বাড়ালে তিনি গরুটি ছেড়ে দিতেন। এমন সময় বৃষ্টি নামার কারণে ক্রেতা আর আসেননি। আজ একজন ক্রেতা আরও ১০ হাজার টাকা কম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাম বলেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যাপারী বলেন, হাট ইজারাদারদের প্রতিনিধিদের কাছে মাঠে বালু ফেলার অনুরোধ জানালেও তারা কোনো উদ্যোগ নেন না। এমন পরিবেশ থাকলে ক্রেতারা ভুলেও হাটে গরু কিনতে আসবেন না বলে তিনি জানান।
সূত্রঃ জাগো নিউজ ২৪ 

0/Post a Comment/Comments

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো