হজের খুতবায় করোনা থেকে মুক্তি ও বিশ্ব শান্তি কামনা

হজের খুতবায় করোনা থেকে মুক্তি ও বিশ্ব শান্তি কামনা

হজের খুতবায় করোনা থেকে মুক্তি ও বিশ্ব শান্তি কামনা

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই, ৯ জিলহজ) স্থানীয় সময় দুপুর বারোটা ২৮ মিনিটে সালাম দিয়ে হজের খুতবা শুরু করেন শায়খ আবদুল্লাহ বিন সোলায়মান আল মানিয়া। আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দিয়েছেন  তিনি। খুতবার শুরুতে আল্লাহতায়ালার প্রশংসা ও হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করেন।
খুতবায় তিনি বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি, গোনাহ মাফ, আল্লাহর রহমত কামনাসহ সম-সাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে বিশ্ববাসীর প্রতি নানা নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন।
করোনা ভাইরাসের কারণে এবার ভিন্ন এক বাস্তবতায় সীমিত সংখ্যক মুসলি­র অংশগ্রহণে হজ পালিত হচ্ছে। মূল আনুষ্ঠানিকতা পালনে ফজরের নামাজ আদায় করে মিনা থেকে আরাফাত ময়দানে জড়ো হয়েছেন হাজীরা। এবার হজে এক হাজার সৌদিবাসীর অংশ নেবার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার মুসলি­ অংশ নিচ্ছেন।
হজের আনুষ্ঠানিকতার সবই আছে, কেবল নেই লাখো মুসলি­’র অংশগ্রহণ। সৌদি আরবের ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানে লাব্বাইক ধ্বনিতে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন মুসলি­রা। 
করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত সংখ্যক মুসলি­ এবার হজ পালন করছেন। ফজরের নামাজ আদায় করে তারা মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে জড়ো হন। আরাফাত ময়দানে মসজিদে নিমরাহ থেকে মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশ্যে হজের খুতবা দেবেন সৌদি আরবের প্রবীণ শায়খ ডক্টর আব্দুেহ ইবনে সুলাইমান আল-মানিয়া।  এবারই প্রথম আরবি ভাষায় দেয়া খুতবা বাংলাসহ ১০টি ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার হবে।
খুতবার পর এখানেই এক আজানে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন হাজিরা। সুর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে মুজদালিফায় গিয়ে আবারো এক আজানে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন তারা। রাতে অবস্থান করবেন মুজদালিফার খোলা মাঠে। পরদিন শয়তানের উদ্দেশ্যে পাথর ছুড়ে মারবেন ও সাধ্যমত পশু কোরবানী করবেন। এজন্য আগে থেকে জীবাণুমুক্ত প্যাকেটজাত পাথর দেয়া হবে হাজীদের।
করোনার কারণে এবার কেবল সৌদি আরবে বসবাসকারী ১০ হাজার মুসল্লি­ হজ পালন করার অনুমতি পেয়েছেন। হাজিদের মানতে হচ্ছে বিশেষ স্বাস্থ্য নির্দেশিকা। এরপর হাজিরা ২০ জনের গ্র“প করে মক্কায় ফিরে কাবা শরীফ ‘তাওয়াফ’ এবং সাফা ও মারওয়ায় ‘সায়ী’ করে আবারও ফিরে যাবেন মিনায়। ১১ জিলহজ আরো কিছু আহকাম পালন এবং কাবা শরীফে বিদায়ী তাওয়াফের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে পবিত্র হজের সব আহকাম-আরকান।
এদিকে, ইসলামী শরীয়া অনুযায়ি জিলহজ মাসের নবম তারিখে বদলানো হয়েছে কাবা শরীফের গিলাফ। কাবা শরীফ ও মসজিদে হারামাইনের কাস্টোডিয়ান সৌদি বাদশাহর প্রতিনিধিরা কাবা শরীফের গিলাফ পরিবর্তনের অংশ নেন। 

0/Post a Comment/Comments

নবীনতর পূর্বতন