বিল্লাল বিন কাশেমের ছোটগল্প ''জন্মগত বক্রতা'' ধারাবাহিক-২

বিল্লাল বিন কাশেমের ছোটগল্প ''জন্মগত বক্রতা'' ধারাবাহিক-২


গত তিনদিন হলো চাকরি হারিয়ে বাসাতেই আছে নূপুর। মাথার মধ্যে রাজ্যের চিন্তা নিয়ে ঘুমহীন রাত পার করেছে। রাতে ফ্রিজিয়াম ২৫ মিলি একটি ট্যাবলেট খেয়েও এক সেকেন্ডের জন্য তন্দ্রা পর্যন্ত আসেনি।

প্রচন্ড মানসিক অবসাদ থেকে এমনটি হচ্ছে বলেও সে বুঝতে পারছে। তবে কারো সাথে শেয়ার করবে এমন মানুষও নেই।
গত মাসে এক শুক্রবার পিষতোতো বোন বর্ণালীর বাসাতে গিয়েছিলো একাকিত্ব ঘোঁচাতে। এককালে বর্ণালীর সাথে তার খুব ভাব ছিলো।

মাদরীপুর আবুল হোসেন কলেজে বর্ণালী যখন ম্যাসে থাকতো নূপুর ঢাকা থেকেও ওর কাছে যেয়ে থেকেছে।

ঢাকাতে যখন পড়াশোনা করতে এসেছে তখনও একসাথে বাসা নিয়ে একই রুমে বেড শেয়ার করে ছিলো অনেকদিন।

বর্ণালীর সাথে সব শেয়ারিং ছিলো তার। তবে এখন সময় বদলেছে। কর্ম ব্যস্ততার কারণে এখন দেখা হয় না বললেও চলে।

বর্ণালীর বয়স তিরিশ পার হলেও এখনো বিয়ে করেনি। মাঝে মাঝে বাবা মা ছেলে দেখে বটে।

তবে কি কারণে যেন শেষ পর্যন্ত সম্বন্ধ ভেঙে যায়। তবে শেষবার বর্ণালীর বাসায় গিয়ে কেমন যেন আনমনা দেখেছিলো তাকে। সে কারণে কোন আলাপও জমেনি।

এক সময় গেছে তারা দু’জন সারারাত গল্প করে সময় কাটিয়েছে। খুব ছোট বেলায় আগৈলঝাড়ার বাহাদুরপুর গ্রামে নূপুরদের বাড়ীতে বেড়াতে গেলে সারাদিন-রাত এক সাথে থাকতো। থালাবাটি খেলা করে দিন পার করতো।

দূর্গা পুজোতে তাদের গ্রামের বাড়িতে বিরাট উৎসব আয়োজন থাকতো সব সময়। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বাড়ীতে কাকা, পিসী, মাসী, তাদের ছেলে-মেয়ে নিয়ে আসতো। বাহাদুরপুরের এ অঞ্চলে সুনীল ডাক্তরের বাড়ীতে সব চেয়ে বড় পুজোর আয়োজন হয় সব সময়ই। ছোট বেলা থেকে পুজোর শুরু থেকে শেষ অব্দি প্রচুর পরিশ্রম যেতো আত্মীয় পরিজনদের দেখভাল করেই। তবে এসবই আশু, রুচি, মাধবী/বান্ধবী, নূপুর মিলেই করতো। ভালো লাগা ছিলো এসবে অনাবিল। কতোদিন হয় এখন এসব আয়োজনে তার যাওয়া হয় না। গত তিন বছর আগে সব শেষ  দূর্গা পুজোতে যেয়ে মেতে ছিলো আয়োজনে। সবাই ভাল আছে পরিববার-পরিজন নিয়ে। শুধু সেই মনে হয় অসুখী।

নূপুরের বাবা অশ্রু কুমার সরকার পরলোকগত হয়েছে তখন তার বয়স মাত্র চার বছর। মাধবীর বয়স আড়াই আর আশু সবে কোলে। নূপুরের দিদি কেবল রুচিই কেবল বুঝতে শিখেছে। বাবার মৃত্যু তাদের জীবনকে বাস্তবতার মুখমুখি দাড় করিয়েছে। মা পুষ্প রাণী সরকার যখন বিঁধবার বেশ ধরতে হয়েছে তখন তার ঢের যৌবন। ছোট বেলার কথা মনে হলে মাঝে মাঝে তার শরীর শিউরে ওঠে। কুমারী কন্যা তখন রুচী। রাতে খাবার পরে শুতে গেলে চালে ঢিল ছোড়া শুরু হয়ে যেতো। মাঝে মাঝে হাকডাক। পুষ্প রানী তখন সবাইকে আকড়ে রাম দা নিয়ে বসে প্রহর গুনতেন। পুষ্প রাণী ছিলেন শিবের ভক্ত। শিবের আরাধনার রীতি অনুসরণ করতো। বাবা ভোলানাথের পুজোর ধরন রপ্ত করেছে নূপুর। ফুল-বেলপাতায় সন্তুষ্ট হন শিব। আর পূরণ করেন মনস্কামনা। তাই এটিই করতো রোজই।

canvasnews24/সা আ 

1/Post a Comment/Comments

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো