ভালবাসার কাব্য তুমি।। Canvasnews24.com

ভালবাসার কাব্য তুমি।। Canvasnews24.com


                               ভালবাসার কাব্য তুমি... 

                                               মুর্শিদা এনাম মীম


''ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে

আমার নামটি লিখো-তোমার

মনের মন্দিরে'' 

মাঝ সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে অতলে ডুবে যাচ্ছে একটি জীবন। কোন স্বপ্ন নেই আশার আলো নেইমাঝে মাঝে চোখ মেলে তাকানো আর 
ঝাপসা চোখে অস্পষ্ট পৃথিবীকে দেখা।কূল কিনারা বিহীন উঁচু নিচু ঢেউয়ের মাঝে বয়ে চলছিলাম আমি। ঠিক তখনি হঠাৎ করে এক খন্ড কাঠের টুকরো হয়ে ধরা দিলে। হাত বাড়িয়ে দিলেবেঁচে থাকার আশা জাগালে।তীরে ফেরার সাহস যোগালে,পৃথিবীকে নতুন রুপে  দেখার সুযোগ করে দিলে।
আমার মেয়েবেলা থেকে পুরুষ শাসিত সমাজের স্বার্থপরতা দেখে দেখে পুরুষের প্রতি জমে থাকা ক্ষোভ ঘৃনা রাগ সব সব কিছুকেই কেমন জানি নিমিষেই 
সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য করিলে। দিলাম  ঘৃনা প্রেমে রুপ নিল। ঠিকানাহীন পথিক ঠিকানা খুঁজে পেল।হাতে হাত রাখলাম। চোখে চোখ রেখে কি যেন বললাম দুজন দুজনকে। অব্যক্ত হাজারো কথা যা মুখে উচ্চারিত হলো না কারোই। শুধু একে অপরের ভাষা বুঝতে পারলাম। শুরু হলো পথচলা।
সেই যে এলে
আমার জীবনে তুমি না এলে তোমার হয়তো তেমন কোন কিছু হত না।কিন্তু আমার!হ্যাঁ আমার অনেক কিছুই হত।অজানাই থেকে যেত জীবনের আসল অর্থ।
তুমি না এলে
এই অত্যাধুনিক যুগেও বাবু সোনা ময়না টিয়া না বলেও নিরবতার মাঝে রচিত প্রেমের কবিতা নানা ছন্দে তালে পড়া হতো না।
ছাত্র জীবনের শুন্য পকেটে দামী ফাস্টফুড এর পরিবর্তে পাঁচ টাকার বাদাম কিনে অভুক্ত পেটে বৃথা ক্ষুধা নিবারনের চেষ্টায় যে প্রেম কে উপভোগ কেমন করে করতে হয় তা জানাই হত না।
পকেটে রিকশা ভাড়া না থাকায় মাইল এর পর মাইল পায়ে হেটে ক্লান্ত শরীরে ঘর্ম স্নান করে নির্জন তরু ছায়ায় দুজন বসে থাকার যে কি স্বর্গীয় সুখানুভূতি তা অজানাই থেকে যেত।অভাবেও যে ভালোবাসা পালিয়ে যায় না বরং শক্ত করে বেধে রাখে সেই কালের সাক্ষি হতে পারাটা কিন্তু কম কথা নয়!
তুমি না এলে
যেখানে এই সমাজে পুরুষরা ঘুড়ির নাটাই কোন ভাবেই হাতছাড়া করতে নারাজ সেখানে সমাজ সংসারে নারীর কতৃত্ব 
প্রতিষ্ঠিত করে কিভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হয়ে তা হাতে হাত ধরে কে শিখাতো বল?
পুরুষের মত নারীর  যে পূর্ণ স্বাধীনতা উপভোগ করার অধিকার আছে ,স্বাধীন আকাশে মুক্ত প্রজাপতির মতো রঙিন 
পাখনা মেলে উড়ে বেড়াতে পারে
সেই খোলা আকাশ তো তুমিই দিলে।
একজন স্বামীর পাশাপাশি স্ত্রী  যোগ্যতায় নামে অর্থে আভিজাত্যে সমান ভাবে এগিয়ে যাবে তা অনেক স্বামীরাই হয়তো মেনে নিতে চাইবে না।অথচ তুমি আমায় সেখানেও পৌঁছে দিলে।
সমাজ সংসারের প্রচলিত কুসংস্কার অর্থাৎ সো কলড নিয়ম রীতি নীতি কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সব কলংঙ্ক নিজ গায়ে 
মেখে আমাকে আগলে রেখে দেখিয়ে দিলে যে একজন স্বামী হয়ে বন্ধু রুপে স্ত্রীর পাশে থাকলে সেই স্ত্রী রুপে নারীটির 
সাফল্যের চুড়ায় পৌঁছানো কতটা সহজ হয়।
তুমি না এলে
দুটো পরিবারকে এক সুতোয় বেধে রেখে পথচললে জীবন যে কত সুখময় হয় তা অজানাই থেকে যেত।
নারীজন্ম হওয়ার অপরাধে প্রতিদিন সামাজিক যাতাকলে পিষ্ঠ হয়ে ক্ষত বিক্ষত রক্তাক্ত হৃদয়ে ঘরে ফিরি।থমকে দাঁড়াই,থেমে যায় পা দুটো যখনঠিক তখনই তুমি যেন কি সব মন্ত্র দিয়ে আমাকে আবার জাগিয়ে তোল।এসব কিভাবে হতো বল?
ধন্য হলো নারী জনম আমার তোমাতে।পূর্ণতার তৃষ্ণা মিটিয়ে প্রতিটি সকাল সোনালী আলোয় ভরে ওঠে জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত।
এভাবেই পাশে থেকো আগলে রেখো ভালবাসায় জড়িয়ে থেক সেই মুহূর্ত পর্যন্ত যেই মুহূর্তে ছুয়ে যাবে যম।


                                                                                                                  
                                                                                                                                                        canvasnews24।। সা আ

 

1/Post a Comment/Comments

  1. ঘল্পটা পড়ছিলাম, আর পততেকটা সব্দ থেকে একটা মিষ্টি মিষ্টি অনুভূতি পাচ্ছিলাম।

    উত্তর দিনমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন